Home Uncategorized শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য, ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে লহ প্রণাম

শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য, ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে লহ প্রণাম

“সে মানুষ চেয়ে চেয়ে ফিরিতেছি পাগল হয়ে,
মরমে জ্বলছে আগুন আর নেবে না।”

১১সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে আসামের শিলচরে জন্মগ্রহণ করা একজন ভারতীয় বাঙালি লোকসংগীত শিল্পী এবং লোকসংগীত গবেষক। উনার সংগীতের অনুপ্রেরণা ছিলেন উনার কাকা অনন্ত ভট্টাচার্য মহাশয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যয়ন করেছিলেন।

১৯৯৯সালে তিনি উত্তর বঙ্গ এবং পূর্ববঙ্গের পল্লী গান এবং লোকগীতির ঐতিহ্যকে পূর্ণ জাগরিত করেছিলেন। এইসব গান কে লোকালয়ে আনার জন্য তিনি “দোহার” নামে একটি লোকগানের ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর আসাম এবং উত্তর পূর্ব ভারতের নানান ধরনের লোকগীতি বিহু বাউল কামরূপী সিলেটি গান ভাওয়াইয়া গান এই ব্যান্ডের দৌলতে তিনি দেশ-বিদেশে গেয়েছিলেন। বেশকিছু ছায়াছবিতেও তার অবদান অসীম। শেষ ছায়াছবিটি ছিল ভুবন মাঝি।
আসামের শিলচরের বাড়িই তার সংগীতচর্চার প্রাথমিক জায়গা। সুর ও তালের মধ্য দিয়ে প্রথমে তবলা বাজানোর প্রয়াস তারপর তবলা বাদক এবং ধীরে ধীরে সুরের জগতে নিজেকে প্রবেশ করিয়েছেন তিনি। তারপর ধীরে ধীরে অন্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন।

গান তার গভীর আগ্রহের বিষয় ছিল। অবশেষে তিনি বাংলার উত্তরে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি গবেষণা শুরু করেন আবৃত সুমধুর ,স্পন্দনশীল, সার্বজনীন লোকসুর যা অনেকের কাছে অজ্ঞাত ছিল। “ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন ফর দা আর্টস”থেকে গবেষণার জন্য পাওয়া অনুদান থেকে তিনি ব্যাঙ্গালোরে চলে যান।

তিনি গ্রামীণ বাংলার আত্মা এবং হৃদয়ের গানের প্রতি বেশি আকৃষ্ট ছিলেন। যেখানে আত্মার সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক এবং জীবন বাদ নিয়ে বেশি আলোচনা রয়েছে। তিনি সহজ পরবের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ছিলেন।

তারপর সারেগামাপার মঞ্চে বাংলা গান কে প্রতিস্থাপিত করে বিশ্ব সম্মুখে সকলের কাছে সমাদৃত হন। অভিনন্দন ছুটে আসে নানান দিক থেকে।

ভট্টাচার্য্য প্রতিভা দিয়ে এই প্রমাণ করেছিলেন যে শিল্প ভাষাগত বাধা ছিন্ন করে জনগণের কাছে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত।
তার এই ৫০ তম জন্মবার্ষিকীতে রইল ভেদহীন বৈষম্যহীন ঐক্য বিরাজমান সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা।