Home Uncategorized লোকসভায় নয়া কৃষি বিল পাশ।অসন্তুষ্ট কৃষকরা! দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ

লোকসভায় নয়া কৃষি বিল পাশ।অসন্তুষ্ট কৃষকরা! দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ

বৃহস্পতিবার প্রবল বিরোধিতার মধ্যে লোকসভার ছাড়পত্র পায় বিতর্কিত কৃষি বিল। ফারমার্স প্রডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রমোশন অ্যান্ড ফ্যাসিলিয়েশন) বিল এবং ফারমার্স (এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন) এগ্রিমেন্ট অন প্রাইস অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস বিল দু’টি সংসদের নিম্নকক্ষে পাশ হয়ে গিয়েছে। এবার সেগুলি রাজ্যসভায় পেশ করা হবে। এছাড়া এর আগেই অত্যাবশ্যক পণ্য সংশোধনী আইন লোকসভার ছাড়পত্র পেয়েছে।

কৃষিক্ষেত্রে ফসল বিক্রি এবং কৃষিপণ্যের বাজারে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে অনেক আগেই তিনটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল কেন্দ্র। যে অর্ডিন্যান্সে বেসরকারি সংস্থার জন্য সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি সংস্থা চাইলে সরকারের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের মতো দামে কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনতে পারবে। তবে, এই বিলের পরও বর্তমানে সরকার যেভাবে ন্যূনতম সমর্থন মূল্য দিয়ে ফসল কেনে, সেই পদ্ধতিতে কোনও বদল আসবে না। বৃহস্পতিবার লোকসভায় এই অর্ডিন্যান্সগুলি বিল আকারে ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে যায়। যদিও কৃষকদের ধারণা, এই বিল পাশ হওয়ার ফলে বাজার থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরে যাবে। সরকার ধীরে ধীরে ন্যূনতম সমর্থন মুল্যে ফসল কেনা বন্ধ করে দেবে। ফলে কৃষকদের পুঁজিপতিদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা এই বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। আগামী ২৪-২৭ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবে রেল রোকো কর্মসূচি নিয়েছে কৃষকদের একটি সংগঠন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়েছে ভারত বনধ।

তিনটি বিল নিয়েই শুরু হয়েছে কৃষক বিক্ষোভ ৷ পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশে কৃষক বিক্ষোভ চলছে ৷ ফার্মার্স ট্রেড অ্যান্ড কমার্স বিল নিয়ে ক্ষোভ যেমন রয়েছে, তেমনি প্রাইস প্রোটেকশন অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিস বিল নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে ৷মঙ্গলবার বিলের বিপক্ষে ভোট দেয় শিরোমনি অকালি দল৷ মঙ্গলবার অকালি দলের নেত্রী হরসিমরত কউর বাদল মোদীর মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন।পরে তিনি দাবি করেন, বোন হিসেবে চাষিভাইদের পাশে দাঁড়াতে পেরে তিনি গর্বিত। অকালি দল এনডিএ-তে বিজেপির সবথেকে পুরনো শরিক। মোদী জমানায় এই প্রথম কোনও শরিক দলের মন্ত্রী সরাসরি সরকারি নীতির বিরোধিতা করে পদত্যাগ করলেন।

তাছাড়াও সংসদে কৃষি বিলের বিরোধিতা করে আসরে নেমেছে কংগ্রেস। বিলের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সংসদে ওয়াক আউটও করেছিল কংগ্রেস।এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বর টুইটে লেখেন , ‘লোকসভায় কৃষক সংক্রান্ত দু’টি অর্ডিন্যান্স পাশ করা হয়েছে৷ পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকেরা রাস্তায় প্রতিবাদ করা শুরু করেছে৷ দু’টি বিল আমাদের এখনও পর্যন্ত অসম্পূর্ণ খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার তিনটি স্তম্ভকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। সেগুলি হল , ন্যূনতম সমর্থন মূল্য, জনগণের আয় বা সংগ্রহ, এবং জনগণের মধ্যে বিতরণ ব্যবস্থা।এই বিল দু’টির গুরুতর ত্রুটি হল এটি কোনওভাবেই নিশ্চিত করে না যে , কৃষক যে দাম পাবে, তা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইসের চেয়ে কম হবে না৷’

বিহারের রেল সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, কৃষি বিল নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে বলা হচ্ছে যে গম ও চালসহ একাধিক ফসল সংগ্রহকারী সরকারি সংস্থাগুলি এবার থেকে আর কৃষকদের কাছ থেকে ফসল সংগ্রহ করবে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কৃষকদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি বিহারের জন্য আয়োজিত ভার্চুয়াল সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী বলেন যে তিনি গোটে দেশের কৃষকদের কাছে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ভ্রান্ত পথে চালিত হলে বিপদ আরও বাড়বে। একাধিক সমস্যা তৈরি হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলি কৃষি বিল নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের থেকে সাবধানে থাকুন। পাশাপাশি তিনি এদিনও নাম না করে নিশানা করেন কংগ্রেসকে। বলেন যাঁরা দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল তারা দেশের অন্নদাতাদের জন্য কিছুই করেনি। মধ্যস্ততাকারীদের প্রাধান্য থাকায় তারাই মুনাফা লাভ করে বেরিয়ে গেছে।