Home Uncategorized লোকেরা আজমলকে স্বাগত জানাতে ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেবে কেন? : হেমন্ত...

লোকেরা আজমলকে স্বাগত জানাতে ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেবে কেন? : হেমন্ত বিশ্ব শর্মা

সম্প্রতি শুক্রবার সকালে অসমের অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পিডাব্লুডির মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা তার ওফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন যে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) প্রধান ও সংসদ সদস্য বদারউদ্দিন আজমলকে শিলচর বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর সময় তার কিছু সমর্থকরা “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” স্লোগান তুলছে।শুক্রবার সেই ভিডিওটিকে ভুয়ো দাবি করে ভিডিওটিকে বল্ক করে দেয় ফেসবুক।ফেসবুক এবং এএলটি নিউজ দাবি করেছে যে এআইইউডিএফের সমর্থকরা ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বিতর্কিত স্লোগানের পরিবর্তে ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ উত্থাপন করেছিল।

যদিও ফেসবুক এবং এএলটি নিউজ দাবি করে যে এআইইউডিএফের সমর্থকরা ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বিতর্কিত স্লোগানের পরিবর্তে ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ উত্থাপন করেছিল, আসামের অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পিডাব্লুডির মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন যে ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এর জন্য এবং তদন্ত চলছে। শর্মা বলেন যে এআইইউডিএফ সমর্থকরা কেন ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে বদরুদ্দিন আজমলকে স্বাগত জানাবে।

তিনি বলেন “বদরুদ্দিন আজমল বা আজিজ খান কে, ফেসবুক জানে না। এটি তাদের প্ল্যাটফর্ম, এবং তারা কী পোস্ট করবেন এবং কী করবেন না তা তারা সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমার বক্তব্য, লোকেরা আজমলকে স্বাগত জানাতে ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেবে কেন?”

তিনি আরও বলেছেন যে এআইইউডিএফের উচিত ছিল যদি তারা ঠিক থাকে, এবং ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান না দেয় তবে তাদের তাত্ক্ষণিক জবাব দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, এআইইউডিএফ একটি প্রেস বিবৃতি জারি করেছে যেখানে তারা দাবি করেছে যে তাদের সমর্থকেরা ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়েছে। এআইইউডিএফ বলেছে যে আসন্ন নির্বাচনে তাদের কংগ্রেসের সাথে জোট ভেঙে ফেলার জন্যই এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি।তাদের বক্তব্য “আসলে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, বেহাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সহ নানা কেলেঙ্কারির জেরে বিজেপি সরকার বর্তমানে জর্জরিত। এসবের দরুন সাধারণ জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন তাদের প্রতি।বিজেপি নেতারা এসবের থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘুরাতে মাঝে মাঝেই “পাকিস্তান জিন্দাবাদ”-এর মত আজগুবি সব ইস্যু সামনে নিয়ে আসেন।এটি সম্পূর্ণরূপে বিজেপির একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”

এই প্রসঙ্গ তুলে অখিল ভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব বিজেপির উপর তোপ খোসে বলেছেন “গত পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার বরাক উপত্যকায় কোন উন্নতির কাজ করনি এখন নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ধর্মের রাজনীতি করে বেড়াচ্ছে।মিজোরাম আসামের জমি দখল করে নিয়েছে এব্যাপারে কোন কথা বলে না এদের নেতা মন্ত্রীরা অথচ সত্য জাচাই না করে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মিথ্যা প্রচার করেছে হেমন্ত বিশ্ব শর্মা।হেমন্ত বিশ্ব শর্মা একজন বরিষ্ঠ রাজনেতা,তার এই মিথ্যা প্রচারের দায় নিয়ে ইস্তফা দেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে অসম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সাইকিয়া একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন ” ডাঃ শর্মা অভিযোগ করছেন যে এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দীন আজমলের উপস্থিতিতে শিলচর বিমানবন্দরে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ডঃ শর্মা নিজেই ‘জয় বাংলাদেশ’ উচ্চারণ করেছিলেন আসাম বিধানসভা মত জায়গায়। এই শব্দগুলি হাউসের কার্যক্রমে লিপিবদ্ধ করা রয়েছে।” তাছাড়া তিনি এদিন সিনিয়র মন্ত্রী ডঃ হেমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘জয় বাংলাদেশ’ বক্তব্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালকে স্মরণ করিয়ে দেন।

এদিকে, “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” এবং ” অজাজ খান জিন্দাবাদ” বিতর্কিত ভিডিওর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে সিপিএম।সিপিএমের কাছাড় জেলা কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “এআইইউডিএফের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে অস্বীকার করে যদিও বলা হয়েছে শিলচর বিমানবন্দরে তাদের সমর্থকেরা কখনো ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়নি।দক্ষিণ করিমগঞ্জের এআইইউডিএফ বিধায়ক আজিজ খান সমর্থকদের ‘আজিজ খান জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে বিজেপি ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলে চালিয়ে দিয়ে নির্বাচনী ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে তা সত্বেও এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”