Home Uncategorized যুদ্ধের হুমকি চিনের!৪৫ বছর পর গুলি চলল লাদাখ সীমান্তে

যুদ্ধের হুমকি চিনের!৪৫ বছর পর গুলি চলল লাদাখ সীমান্তে

PTI

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে কেন্দ্র করে তীব্র মাত্রায় পৌঁছল ভারত-চিন সংঘাত। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে ঘটল গুলি চালানোর ঘটনা। ৪৫ বছর পরে এই প্রথম গুলি চলল লাদাখ সীমান্তে। ভারত-চিন সীমান্তে শেষ গুলি চলেছিল ১৯৭৫ সালে অরুণাচলে। সে বার টুলুং লা-তে চিনা সেনার গুলিতে অসম রাইফেলসের চার জওয়ান মারা যান। গত জুনে গালওয়ান এলাকায় দু’দেশের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান মারা গেলেও গুলি চলেনি।

সম্প্রতি, প্যাংগং লেকের দক্ষিণ তটের একটি গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ চিনাদের থেকে মুক্ত করে পুনঃদখল করেছে ভারতীয় সেনা। ফলে চিনা সেনার গতিবিধির উপর নজর রাখতে সুবিধে হচ্ছে। এতেই অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে চিন। তাই ওই এলাকা দখলের উদ্দেশ্যে গত কাল চুসুল সেক্টরের মুখপারি চুড়ো ও রেচিন লা এলাকায় হামলা চালায় লালফৌজ। আজও চুসুল সেক্টরে গুলি চলার খবর মিলেছে। যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছেন সেনাপ্রধান এম এম নরবণে। আজ রাতে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসার কথা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত ও চিনের ব্রিগেডিয়ারদের মধ্যে হটলাইনে কথা হয়। সূত্রের মতে, গত কালের ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে।

সম্প্রতি বেজিং আজ তাদের সরকারি মুখপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলেছে যে ভারতীয় সেনাসদস্যরা লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) হিসেবে পরিচিত দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত অতিক্রম করে গুলি চালানোর তারাও গুলি চালিয়ে তারা।যদিও পরে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য আসন্ন শীতের সময়ে লাদাখ অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে উত্তাপ কিছুটা কমানোর বার্তাও দেয়। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার মস্কোয় সাংহাই সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে প্রস্তাবিত বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক শিবির।

সম্প্রতি শুক্রবার মস্কোতে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সাইডলাইন বৈঠকে বসেন চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেং ও রাজনাথ সিং। সেখানে চীনকে প্যাংগং লেকে দখলদারি মনোভাবের জন্য কটাক্ষ ও সামলোচনা করেন রাজনাথ। তবে চীন তার উত্তরে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দেয়, যা রীতিমত নিন্দনীয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।