Home Uncategorized মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের!গতকাল শিলচরের ট্রাঙ্ক রোডের কেপিটাল পয়েন্টের সামনে...

মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের!গতকাল শিলচরের ট্রাঙ্ক রোডের কেপিটাল পয়েন্টের সামনে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় তারা

করোনা পরিস্থিতিতে শিলচরে গণপরিবহনের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরলেও অরাজকতার শেষ নেই।করোনা সুযোগ অজুহাতে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে শহরের অটোরিকশা এবং টুকটুক চালকরা।এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য সময়ে সময়ে বিভিন্ন মহলের থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তবে কোন লাভ হয়নি।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাসের উপর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।তাই এবার বাধ্য হয়ে এই অরাজকতার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠছে শহরের পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার সকালে শিলচরের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত সড়ক ট্রাঙ্ক রোডের কেপিটাল পয়েন্টের সামনে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন গড়ে তোলে তারা।শহরের সুপরিচিত দুটি কলেজ জিসি কলেজ এবং কাছাড় কলেজের পড়ুয়ারা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।প্রায় দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা।দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধের ফলে এর প্রভাব পড়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলিতে।তারপর খবর পেয়ে অন্যান্য অফিসারদের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ম্যাজেস্ট্রেট এস পাঠক।তিনি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে অতিসত্ত্বর সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন এবং তিনি এনিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারির অভিযান চালিয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়কারী অটো ও টুকটুক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।তাছাড়া তিনি এই সমস্যাটি নিয়ে জেলা প্রশাসনের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত করারও আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ম্যাজেস্ট্রে এস পাঠকের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর সড়ক অবরোধ মুক্ত করেন পড়ুয়ারা।

উল্লেখ্য যে এই অরাজকতার বিরুদ্ধে আগেও বিক্ষোভ গড়ে তুলছিল তারা।সম্প্রতি গত ১০ নভেম্বর তারা জেলা প্রশাসক কীর্তি জল্লি, পুলিশ সুপার বিএল মিনা, জেলা পরিবহন কর্মকর্তা এবং অটো টুকটুক এসোসিয়েশকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে ৭ দিনের মধ্যে এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য দাবি জানায় ।কিন্তু সাত দিনের সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না।তারপর তারা গত ১৭ নভেম্বর জিসি কলেজের সামনে কলেজ রোড সড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।তারপর জেলা প্রশাসন এবং পরিবহণ বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবারও ৭ দিনের সময় নিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।কিন্তু এবারও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তারা মঙ্গলবার সকালে শহরের ট্রাঙ্ক রোডের কেপিটাল পয়েন্টের সামনে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন গড়ে তোলে।

মঙ্গলবার সকালের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জিসি কলেজের এক পড়ুয়া স্নেহাল চক্রবর্তী জানান, ” করোনা পরিস্থিতিতে ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে গণপরিবহন চালু করা হয়েছিল শিলচরে। শর্ত ছিল ৫০ শতাংশ যাত্রী নেয়ার।কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ আসন খালি রাখার যে নিয়ম চালু করা হয়েছিল সেটি বর্তমানে আর নেই।তবুও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে শহরের অটোরিকশা ও টুকটুক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়াই আদায় করছে।যার ফলে আমরা অর্থাৎ ছাত্র ছাত্রীদেরও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।তাই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আগেও আমরা দুইবার প্রশাসনকে দাবিপত্র দিয়েছি। কিন্তু প্রশাশনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা মঙ্গলবার সকালে শিলচর ট্রাঙ্ক রোডের কেপিটাল পয়েন্টের সামনে সড়ক অবরোধ করে এই অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই।তারপর ম্যাজেস্ট্রেট এস পাঠক স্যার, জেলা পরিবহন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পুলিশ অধিকারিকরা আন্দোলনস্থলে পৌঁছান এবং ম্যাজেস্ট্রেট এস পাঠক স্যার আমাদের সমস্যার অতিসত্ত্বর সমাধানের আশ্বাস দেন এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারির অভিযান চালিয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।ম্যাজেস্ট্রেট এস পাঠক স্যারের আশ্বাসের পর আমরা সড়ক অবরোধ মুক্ত করি।”

অন্যদিকে, ভাড়া কমানোর পক্ষে কিছুতেই রাজী নন অটো টুকটুক চালকরা তাদের কথায়, ” শিলচরে অনেক অটোচালক রয়েছে যারা ভাড়াতে অটো চালান। লকডাউন পরিস্থিতিতে সেই অটো চালকরা রোজগার করতে পারেননি অথচ গাড়ির ভাড়াও দিতে হয়েছে তাদের।তাই দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।”