Home Uncategorized বড়দিনে বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবিতে জেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি পড়ুয়াদের!

বড়দিনে বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবিতে জেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি পড়ুয়াদের!

করোনা অতিমারীর প্রকোপ কিছু পরিমাণ কম হলেও এর ভয়াবহতা এখনও সমাপ্ত হয়নি।আজও সমগ্র ভারতবর্ষে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯,৩৯৮ জন লোক।এই করোনা অতিমারির কারণেই এবৎসর উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাত্ত্বিক ভাবে আয়োজিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব দূর্গোৎসব।তাছাড়া দীপাবলি, ছটপূজা এবং অন্যান্য উৎসব গুলোও কেটেছে ঠিক তেমনই।সামনেই আসছে খ্রিস্টান ধর্মের সবথেকে বড় উৎসব বড়দিন। ২৫ ডিসেম্বর তারিখে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে উপহার প্রদান, সংগীত, বড়দিনের বৃক্ষ, আলোকসজ্জা এবং যিশুর জন্মদৃশ্য ইত্যাদির মাধ্যমে খুবই জাকজমক ভাবে এই উৎসব পালিত হয় শিলচরে । প্রকৃতঅর্থে একটি খ্রিষ্টীয় ধর্মানুষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও, একাধিক অ-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও মহাসমারোহে বড়দিন উৎসব পালন করে।যার জন্য প্রতিবছর বড়দিন উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন গির্জাঘরে বিশাল জন সমাবেশ দেখা যায় । তাই বড়দিন উপলক্ষে বিশাল জন সমাবেশের ফলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এড়ানোর জন্য কিছু নিয়মকানুন এবং বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবিতে শুক্রবার জেলা প্রশাসকের কাছে এক স্মারকলিপি প্রদান করেছে শিলচরের পড়ুয়ারা।

স্মারকলিপিতে ছাত্র সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বড়দিনে সংক্রমণ এড়ানোর জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে ” বর্তমান বিরাজমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা, ছাত্র সম্প্রদায় বড়দিনের সময় শহরে ছড়িয়ে পড়া করোনা সংক্রমণ এড়ানোর জন্য কিছু নিয়মকানুন এবং বিধিনিষেধের আরোপ করা দৃঢ় প্রয়োজন বলে অনুভব করি।আমরা সবাই জানি, শহরের বৃহত্তর যুবসমাজ বড়দিনের সন্ধ্যায় ওরিয়েন্টাল চার্চ বা হলি ক্রস চার্চের চারপাশে জড়ো হন, যার ফলে শহরের ওই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সমূহে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এলাকাগুলি হটস্পট জোনে রূপান্তরিত হতে পারে।তাছাড়া বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এই শীতে করোনা ভাইরাস এর গুরুতর পরিণতির সতর্কতা দিচ্ছেন। এছাড়াও, সাধারণ জ্বর বা ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আসা সর্দিকাশি, মানুষকে আরও দুর্বল করে তোলে এবং কোভিড -১৯ এর মতো ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে তোলে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।তাছাড়া আমরা দুর্গাপূজা, কালি পূজা, ছট পূজা চলাকালীন আমাদের জেলা প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধ দেখেছি, যেখানে জনসাধারণের অনুরোধ ছিল বিধিনিষেধে ঢিলঢাল দেওয়ার, কিন্তু প্রশাসন তার কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। তদুপরি, আমরা বড়দিনে ভিড়ের মধ্যে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সেই একই গুরুতরতার আশা করি। অতএব আমরা, জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করছি বড়দিনের সন্ধ্যার জন্য বিধিনিষেধ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রকাশ করুন এবং শহরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করুন।”

তাছাড়া স্মারকলিপি প্রদানকারীদের মধ্যে একজন ছাত্র সুভাষ চৌধুরী জানান ” আসন্ন বড়দিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে করোনার ভয়াবহতার বিষয়ে অবগত করিয়ে আজ আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছি।যেহেতু আমরা সবাই জানি বড়দিন উপলক্ষে বেশিরভাগ যুব সমাজ শহরের বিভিন্ন গির্জাঘরে একত্রিত হন তাই এই ধরনের সমাবেশের ফলে বড়দিনের এক দুইদিন পর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।তাছাড়া দূর্গপূজা,কালিপূজা এবং ছটপূজা উপলক্ষে আমরা জেলা প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধ দেখেছি অবশ্যই তা জনসাধারণের ভালোর জন্যই ছিল।তাই আমরা বড়দিন উপলক্ষে করোনা সংক্রমণ এড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সেই একই গুরুতরতার আশা করছি।”