Home Uncategorized বিজেপিতে রাজদীপ গোয়ালা! লক্ষীপুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ফের বদল।

বিজেপিতে রাজদীপ গোয়ালা! লক্ষীপুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ফের বদল।

বিজেপিতে রাজদীপ গোয়ালা! লক্ষীপুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ফের বদল।

সম্প্রতি গত শুক্রবার লক্ষীপুরের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালাকে পার্টি বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কংগ্রেস দল থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে কংগ্রেস। প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত দীনেশ প্রসাদ গোয়ালার জ্যেষ্ঠপুত্র রাজদীপ গোয়ালা ২০১৪ সালে উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো জয়ী হন। নির্বাচনের প্রায় ছয়মাস আগে কাছাড় জেলার একমাত্র কংগ্রেস বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালাকে কংগ্রেস দল থেকে বহিষ্কার করার এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই জেলা কংগ্রেসের কাছে একটি বড়সড় ধাক্কা।

রাজদীপ কিছুদিন ধরেই বিজেপির সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। তাদের অভিযোগ রাজদীপ গোয়ালাকে কখনোই বিজেপির সমালোচনায় সরব হতে দেখা যায়নি, বরং নানা প্রসঙ্গে তিনি বিজেপির প্রশংসাই করেছেন।তারজন্যই রাজদীপকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস।

উল্লেখ্য,লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্র কংগ্রেসের দূর্গ হিসাবে পরিচিত। উনিশোতিরাসি-সাল থেকে কোনো দলই কোনোস্তরে কংগ্রেসকে টেক্কা দিতে পারে নি।কিন্তু শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বাজিমাত করে বিজেপি। পঞ্চায়েতস্তরের অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করে দলের মনোনীত প্রার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে দলের অনেকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছিলেন বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালার বিরুদ্ধে।

ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন রাজদীপ গোয়ালা।তার বিজেপিতে যাওয়া এখন মাত্র সময়ের অপেক্ষা।সম্প্রতি অসম বিধানসভা নির্বাচনে ১৯৯১ সাল থেকে লক্ষীপুরে প্রার্থী দিচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জয়ের স্বাদ পায় নি। অবশ্য প্রথম দিকে এক-দুবার জয়ের আসা দেখেছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। এর পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে যে বিজেপি প্রার্থী নির্বাচিত হচ্ছে, তার কোনও লক্ষণই দেখা যায় নি। বিপরীতে প্রতি নির্বাচনে বিজেপির ভোট কমে আসতে দেখা যায়। অনেকে বলেন, লক্ষীপুরে কংগ্রেস-বিজেপির মধ্যে মুখ্য লড়াই হলেও নির্বাচনের পর বিজেপির অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়ায় প্রতি নির্বাচনে বিজেপির ভোটিং গ্রাফ কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে একুশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজদীপ গোয়ালার বিজেপিতে যোগ বিজেপিকে কতটুকু সাহায্য করবে এটা এখন দেখার বিষয়।

তাছাড়া বিজেপিতেও পরিস্থিতি সহজ হবেনা রাজদীপের জন্য। একুশ বিধানসভা নির্বাচন আসতেই পূর্বেকার নীতি অনুযায়ী মাঠে না থাকা প্রার্থীরাও এখন বিজেপি টিকিট দাবি করতে লবি কেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু করে দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।তাছাড়া একুশ সালে বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষীপুর সমষ্টি থেকে বিজেপি টিকিটের একজন শক্তিশালী দাবিদার হলেন থৈবা সিংহর। অনেকের মতামত অনুযায়ী, বিজেপি অস্তিত্ব না থাকা লক্ষীপুরে থৈবার অকাল পরিশ্রমে বিজেপির অস্তিত্ব তৈরি করেছে। যার ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথমবারের মত লক্ষীপুরে বিপুল সাফল্য পায় বিজেপি। তার প্রচেষ্টায় কংগ্রেস দখলে থাকা লক্ষীপুর পুরবোর্ড অনাস্থা ভোটে বিজেপি দখল করে।তারমধ্যে জেলা বিজেপির সভাপতি কৌশিক রাইও লক্ষীপুর আশনে দলীয় টিকিটের দাবিদার।বাইরের মানুষ বলে তার উপর যাতে কেউ প্রশ্ন না তোলে,সেইজন্য ইতিমধ্যে লক্ষীপুরে বাড়ি তৈরি করেছেন কৌশিকবাবু।তাই নতুন দলে যোগ দিয়েই তাকে জেলা সভাপতির সাথে দ্বন্দ্বে জড়াতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

তারমধ্যেই লক্ষীপুরে কংগ্রেসীদের অবস্থাও বেহাল। অনেকেই বলেন,লক্ষীপুরে গোয়ালা পরিবার ছাড়া বিকল্প নেই কংগ্রেসের কাছে l তাই রাজদীপ গোয়ালা বিজেপিতে গেলে কংগ্রেসের কাছে একুশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী খোজাই এক চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে l অবশ্য কংগ্রেস মহলের একটি দাবি,রাজদীপ বিজেপিতে গেলে বিকল্প হিসাবে কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতাও লক্ষীপুর থেকে প্রতিদ্বন্দীতা করতে পারেন l তবে,সিদ্বান্ত নেওয়া এখনও সময়ের হাতে রয়েছে l