Home News Assam পুজোর মধ্যে অকাল বর্ষণের পূর্বাভাস!কাছাড় সহ দক্ষিণ আসামের সমস্ত চারটি জেলায়...

পুজোর মধ্যে অকাল বর্ষণের পূর্বাভাস!কাছাড় সহ দক্ষিণ আসামের সমস্ত চারটি জেলায় রেড এলার্ট।

Image used for representational use.

দুর্গা পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে শহর জুড়ে সাজো সাজো রব। করোনা আবহেও ঘরে আসছেন উমা।করোনার আতঙ্ককে সঙ্গী করেই শহরের বুকে সুর উঠেছে দেবীর আগমনবার্তা।ইতিমধ্যে দুর্গাপুজো নিয়ে জারি করা হয়েছে সরকারি নির্দেশও।আর সেই সরকারি নির্দেশ মেনেই পুজোর আয়োজন করছেন বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা। তারই মধ্যে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্‍সবের আমেজে আরও জল ঢালতে প্রস্তুত বরুণদেব।আবহাওয়া দফতর তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছিল, অকাল বর্ষণে ভাসবে গোটা পুজো। সেইমতো মা দুর্গার বোধনের দিন ষষ্ঠীর সকাল থেকেই শিলচর শহর জুড়ে আকাশের মুখ ভার।

আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের কাছাকাছি আসছে। অভিমুখ বাংলাদেশ। মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপের অভিমুখ ছিল অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল। কিন্তু স্থলভাগে না ঢুকে সেটি অভিমুখ পরিবর্তন করে আরও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এবার এটি ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে বাংলাদেশের দিকে এগোবে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের কাছাকাছি এসে এটি অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর ফলে সমুদ্র উত্তাল হবে। বইবে ঝোড়ো হাওয়া।এবং তার ফলে অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০৪.৪ মিমির কাছাকাছি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

পূর্বাভাসের জেলাভিত্তিক তথ্য প্রদান করে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায় দক্ষিণ আসামের সমস্ত চারটি জেলায় ২৩ শে অক্টোবর বজ্রপাত এবং অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নিয়ে রেড এলাল্ট জারি করা হয়েছে।তবে কাছাড় বাদে দক্ষিণের আসামের তিনটি জেলাতেই শনিবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,তাই এই তিনটি জেলাতে শনিবার ওরেঞ্জ এলার্ট জারি করা হয়েছে এবং রবিবার গ্রীন এলার্ট জারি করা হয়েছে।শনিবার কাছাড় জেলায় বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য যে আবহাওয়া দফতরের রেড এলার্ট মানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং ওরেঞ্জ এলার্ট মানে প্রস্তুত থাকা ইয়েল্ল এবং গ্রীন এলার্ট যথাক্রমে ‘আপডেট থাকা’ এবং ‘কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া’।

তাছাড়া ষষ্ঠীর সকাল থেকেই শিলচরে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ।সারাদিন কাল মেঘে ছেয়ে থাকে আকাশ, হঠাৎই নেমে আসবে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এদিকে বুধবার মধ্যরাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয় শহরে। রাত সাড়ে এগারোটার পর থেকে বইতে থাকে ঝোড়ো হাওয়া। মধ্য রাতে নামে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি।টানা এক রাত্র বৃষ্টির ফলে শহরের অম্বিকাপট্টি সহ বিভিন্ন এলাকায় জল জমে মিনি বন্যা দেখা দেয় আজ।তারমধ্যে সারাদিন মেঘলা আবহাওয়ার পর আজ সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টির দাপট।সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকেই বইতে থাকে ঝোড়ো হাওয়া।তারপর ছয়টা থেকে টানা দেড় ঘণ্টা বৃষ্টি হয় শহরে।

তবে সে ভয়ে কম্পিত নয় বাঙালির হৃদয়। উৎসবপ্রিয় বাঙালি প্রয়োজনে বর্ষার জলে ছপাৎ ছপাৎ করেই মায়ের দর্শনে বেরিয়ে পড়বেন, এমনটাই মনে করছেন সবাই। তাই একটাই পরামর্শ, পুজোয় নতুন জামা, খাওয়া দাওয়ার এবং করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে এবারে বোধহয় আপনার সবসময়ের সঙ্গী হতে চলেছে ছাতা বা রেনকোটও। তাতে কী, এবার না হয় পুজো জমে উঠুক রঙ বেরঙের ছাতা ও রেনকোটের সাজেই।