Home News Assam অসম-মিজোরাম সীমান্ত বিবাদ ঘিরে মৃত্যু ইন্তাজের! পুরো মামলার এনআইএ তদন্তের সুপারিশ অসম...

অসম-মিজোরাম সীমান্ত বিবাদ ঘিরে মৃত্যু ইন্তাজের! পুরো মামলার এনআইএ তদন্তের সুপারিশ অসম সরকারের।

আরও জটিল হয়ে উঠেছে অসম ও মিজোরামের মধ্যে চলা সীমান্ত বিবাদ।এই বিবাদ ঘিরে সোমবার প্রাণ হারালো ইন্তাজ আলি নামক একজন ব্যক্তি।এর ফলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে অসম মিজোরাম সীমান্তবর্তী অঞ্চল লায়লাপুরে।সোমবার যুবক হত্যার পর লায়লাপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা দলবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে মিজো আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

সম্প্রতি, রবিবার সকালে বাড়ির কাজের জন্য বাঁশ আনতে পাগলাছড়ার জঙ্গলে যান ইন্তাজ। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও ঘরে না ফেরায় পরিবারের লোকেরা তার খোঁজে বের হন।তারপর ইন্তাজের সঙ্গে জঙ্গলে যাওয়া এলাকার বাসিন্দা দুই যুবক পালিয়ে এসে ইন্তাজের ভাই আলি হোসেন ও স্ত্রীকে জানায়, তারা একসঙ্গে জঙ্গলে বাঁশ কাটছিলেন, সেই সময় ওয়াইএমএ নামক একটি উগ্রবাদী মিজো সংগঠনের কয়েকজন মিজো যুবক এসে ইন্তাজকে ধরে নিয়ে যায়। ভয়ে তারা জঙ্গল থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসেন। মিজোরা ইন্তাজকে তুলে নিয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ইন্তাজের ভাই আলি হোসেন ও স্ত্রী লায়লাপর পুলিশ পেট্রোল পোস্টে এক এজাহার দায়ের করেন।তারপর অপহৃত ইন্তাজের ভাই আলি হোসেন তার পরিচিত কিছু মিজোদের যোগাযোগ করেন তাদের হোঅ্যাট্সএপে ইন্তাজের অর্ধমৃত একটি ছবি আসে।তারপর সোমবার সকাল দশটায় মিজো পুলিশ জানায় যে তাকে অবৈধ মাদক সহ আটক করা হয়েছে।আবগারি বিভাগের হেফাজতে রয়েছেন তিনি।তারপর ফের বেলা বারোটার সময় জানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে ধৃত যুবক এবং তাকে মেডিক্যাল করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।তারপর বিকেলে অপহৃত ইন্তাজ আলি মারা গিয়েছেন বলে খবর আসে।তারপর এর প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।পথ অবরোধ করে নিরপরাধ ইন্তাজ আলির হত্যার প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।তাছাড়া শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকাজুড়ে।

তাছাড়া লায়লাপুরের পরিস্থিতি যখন উত্তেজক তখন অন্যএক অপহৃত বর্মনবস্তির নজরুল ইসলামকে ছেড়ে দিয়ে যায় মিজো পুলিশ তারপর নজরুল ইসলাম স্থানীয়দের জানায় গত তিনদিন আগে রেংটি পাহাড়ে ঘাস কাটতে গেলে দুইজন মিজো দুষ্কৃতিরা তাকে হাত পা বেঁধে ধরে নিয়ে যায়।যার মধ্যে এক জনের হাতে বন্দুকও ছিল।তাকে একটি অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গিয়ে একটি গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে মিজো দুষ্কৃতিরা।তারপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে যায়।সোমবার দুপুর প্রায় ২টার সময় তাকে বলা হয় যে তাদের স্থানীয় একজন ব্যক্তি মারা গিয়েছে মিজোরামে তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।তারপর তাকে অসম মিজোরাম সীমান্তে এনে ছেড়ে দিয়ে যায় মিজো পুলিশ।সঙ্গে সঙ্গে তাকে শাসিয়েও যায় যে সে যেন রাস্তায় কারো সাথে কোন কথা না বলে সোজাসুজি বাড়িতে ঢুকে যায় ।

তাছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান মন্ত্রী পরিমল সুক্লবৈদ্য,ডিআইজি দিলিপ দে, জেলা প্রশাসক কীর্তি জল্লি,পুলিশ সুপার বিএল মিনা,সহ অধিকারিকরা।

এদিকে,অপহরণ এবং নৃশংসভাবে ইন্তাজ আলিকে খুনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অসম বন ও পরিবেশ মন্ত্রী পরিমল সুক্লবৈদ্য। তিনি খুব শিগগিরই ইন্তাজ আলীর পরিবারকে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। মাননীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের নির্দেশে আসাম সরকার ইতিমধ্যে পুরো মামলার একটি এনআইএ তদন্তের সুপারিশ করেছে করেছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে তিনি জানান যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ব্যক্তিগতভাবে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সীমান্ত বিবাদের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথেও আলোচনা করছেন যাতে এই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা যায় এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপন করা যায়। আরও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের উপর চাপ দিয়ে মাননীয় মন্ত্রী সোমবার রাতে ঘোষণা করেন যে লায়লাপুরের পুলিশ ফাঁড়ি খুব শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তর করা হবে এবং আসাম মিজোরাম সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলে একই ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়।তাছাড়া মাননীয় মন্ত্রী শ্রী পরিমল সুকলাবৈদ্য লায়লাপুরে অসম পক্ষের মানুষকে শান্তি বজায় রাখতে আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে কাছাড়ের পুলিশসুপার বিএল মিনা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মিজোরামের কলাশিব পুলিশ সুপারকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই অপ্রত্যাশিত হত্যাকাণ্ডের জন্য তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মৃতদেহ যথার্থ সম্মানের সাথে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।এছাড়া সোমবার জেলা প্রশাসনের অধিকরীক ও পুলিশ বাহিনী মৃত ইন্তাজের গ্রাম প্রদর্শন করেন এবং সর্বাবস্থায় শান্তি বজায় রাখতে জনগণের কাছে আহ্বান জানান।

এদিকে, আজ বেলা বারোটার নাগাদ ইন্তাজের মরদেহ অসম পুলিশকে হাতে পৌঁছে দেয় মিজোরাম পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ধলাইয়ের সার্কেল অফিসার ও ইন্তাজের ভাই আলি হোসেন মৃতদেহটি গ্রহণ করেন।তারপর প্রটোকল অনুসারে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।

তাছাড়া আজ দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ অসমের নবনিযুক্ত মুখ্য সচিব জিষ্ণু বড়ুয়া,ডিজিপি ভাস্কর জ্যোতি মহন্ত শিলচর বিমানবন্দরে পৌছান।তারা দুজনেই আজ ডিআইজি সাউথার্ন বেঞ্জ,কাছাড় জেলা প্রশাসক কীর্তি জল্লির সাথে পরিস্থিতির খতিয়ে দেখতে লায়লাপুরে যাবেন।