Home News করিমগঞ্জে নৌপথে পণ্যের রপ্তানি হবে!বিশেষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

করিমগঞ্জে নৌপথে পণ্যের রপ্তানি হবে!বিশেষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রথমবারের মতো আসাম তথা করিমগঞ্জে কুশিয়ারা নদী দিয়ে নৌপথে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।গত রবিবার বাংলাদেশের প্রিমিয়ার সিমেন্টের নারায়ণগঞ্জের কারখানা থেকে আসামের করিমগঞ্জের উদ্দেশে রওনা করা হয়েছে জাহাজ। এটি কোনো পরীক্ষামূলক চালান নয়। নিয়মিত চালান হিসেবেই পণ্য পাঠানো হচ্ছে এই নৌপথে।বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার নৌ প্রটোকলের আওতায় নৌপথে বাণিজ্য হয়। আগে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ছাড়া অন্য কোনো রাজ্যের সঙ্গে নৌ প্রটোকলে নিয়মিত রপ্তানি হয়নি।গত সেপ্টেম্বরে ত্রিপুরার সঙ্গে প্রিমিয়ার সিমেন্টের চালানের রপ্তানি হয়েছে।

সম্প্রতি, গত বৃহস্পতিবার এই নৌপথে সিমেন্ট নেওয়ার চালানটি অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।এ চালানে রবিবার দুপুর নাগাদ এ ভি প্রিমিয়ার নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ আড়াই হাজার ব্যাগ বা ১২৫ টন সিমেন্ট নিয়ে করিমগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।সেটি প্রথমে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করে মেঘনা নদী দিয়ে আশুগঞ্জ পৌঁছাবে। তারপর মেঘনা নদী থেকে সিলেটের কুশিয়ারা নদী দিয়ে সীমান্ত এলাকা জকিগঞ্জে যাবে। সেখান থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসামের করিমগঞ্জ এলাকায় নোঙর করবে। পুরো পথ পাড়ি দিতে সাত দিন সময় লাগতে পারে। করিমগঞ্জের কর অ্যান্ড সন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই সিমেন্টের চালান নিচ্ছে।7 নভেম্বর করিমগঞ্জের স্টিমার ঘাটে পণ্যের চালান গ্রহণ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আসাম সরকার এবং সেই অনুষ্ঠানটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর করিমগঞ্জ স্টিমার ঘাট থেকে লাইমস্টোন বোঝাই করে কার্গো ভেসেলগুলি ফের জকিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হবে।

এটি কোনো ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নয়। মূলত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য এই নৌপথ ব্যবহার করা হবে।

সোমবার বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায় যে অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও সমৃদ্ধির নতুন দৃষ্টান।নদীপথে আসামে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার সিমেন্টের সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক চালান নিয়ে এমভি প্রিমিয়ার-6 আগামী 7 নভেম্বর করিমগঞ্জে পৌছানোর সম্ভাবনা আছে।আশুগঞ্জ-জকিগঞ্জ থেকে কুশিয়ারা পর্যন্ত ড্রেজিং করায় এই রুটটি সারা বৎসর নাব্য থাকে এবং এতে ব্যবসায়ের ব্যায় হ্রাস পায়।

উল্লেখ্য যে ত্রিপুরা, আসামসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সড়ক, নৌ ও রেলপথের উন্নয়ন করতে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের সরকার। এর মধ্যে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। আবার আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে ১১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বারইয়ার হাট থেকে রামগড় সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করা হচ্ছে।