আজ বর্ষার দুরন্তপনা না মুখরতা এবং তার সঙ্গে মিশে থাকা মানুষের নানান আবেগ

    For Representational purposes

    কারো কাছে এই দিনটি”বাদল দিনের কদম ফুল”, আবার কারো কাছে এই বর্ষা”কাঁদিতে থাকে নদীর তীরে”।
    কিন্তু এই বর্ষা বা বৃষ্টির আবহাওয়া চির প্রবাহিত।তাকে পাল্টে দেওয়া যায় না, তার মধ্য দিয়েই শৈবাল পেরিয়ে অন্য ঋতুতে অন্য হাওয়াকে ছুতে হয়। বর্ষা অনেকের কাছে প্রচন্ড রূপবতী পেখম ছড়ানো ময়ূরের মতো, কবির লেখনীতে প্রেমিকের মনের উন্মাদ ভাষা আর অনেকের কাছে আবার গরম চা এবং সঙ্গে তেলেভাজা।

    বিপর্যয়ের সময় নিজেকে দুর্বল না করে প্রতিবারের মতই নিজেদের জীবন ধারণের ঋতু খেটে খাওয়ার কিস্তি হিসেবে ধরলেই ভালো। জনজীবন ঘরের বাইরে হোক বা ভেতরে, মহামারীর সময়ে লকডাউনের নিয়ম-নীতি মেনে ও নিজের পছন্দের কাজগুলো করলে মেজাজে আমেজ ধরা যায়।

    অনেক ব্যবসায়ীরা ডাঙ্গায় বেচাকেনা না করলেও বন্যা প্লাবিত অঞ্চলে নৌকায় প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রয় করছেন। কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বন্যা প্লাবিত অঞ্চল কেই নত মস্তকে মেনে নিয়ে সংকুচিত উদরে আধ মুঠো চাল খেয়েও জীবন ধারণ করছেন।”পণ্য বিনিময় প্রথা”দ্বারা ব্যবসা এবং দৈনন্দিন জীবন চলছে অনেকের। তাদের করুণ চোখেও জীবন সংগ্রাম কে জয় করার প্রবল ইচ্ছা শক্তি জাহির হয়।

    “মেঘ ও রৌদ্র”এই দুইয়ের মিলনে বর্ষাকাল। বর্ষার ব্যবহারে কখনো প্লাবতা আবার কখনো বর্ষা পুরকামিনী। অবসর সময়ে নিজের পছন্দের গান ,কবিতা, নাচ, প্রিয় খাবার, গল্পের বই, পছন্দসই ম্যাগাজিনের পাতা খুলে নিজেকে সময় দিলে বর্ষা মনে স্পন্দন জাগায়। সবাই মিলে প্রশান্তি বজায় রেখে রবির ভাষায়,
    “আজ ভোর থেকে নাইগো বাদল,
    আয়গো আয়।
    মেঘ ছুটে গেল,
    নাইগো বাদল, আয় গো আয়”
    সেদিন দুস্থদের প্রতি হাত বাড়ানোর প্রতিজ্ঞাকে কার্যকরী আর সঙ্গে করোনাকেও বর্ষার জলে ধুয়ে মুছে সব গ্লানি পেরিয়ে সবার মুখে শিথিল হাসি ও মনে উর্বরতা উপহার দিয়ে বর্ষা হয়তো বিদায় জানাবে।

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.