বেতন না পেয়েই মারা গেলেন কাগজ কলের ১০০তম কর্মী, রিলিফ প্যাকেজ এখনও ধোঁয়াশা

বেতন-না-পেয়েই-মারা-গেলেন-কাগজ-কলের-১০০তম-কর্মী,-রিলিফ-প্যাকেজ--এখনও-ধোঁয়াশা
হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের অধীনে থাকা কাছাড় কাগজ কল বন্ধ হয়েছিল ২০১৫ সালে এবং এবং নগাও কাগজ ক

হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের অধীনে থাকা কাছাড় কাগজ কল বন্ধ হয়েছিল ২০১৫ সালে এবং এবং নগাও কাগজ কল বন্ধ হয় ২০১৭ সালে। প্রায় ৬০ মাস ধরে বেতনহীন কর্মচারীরা চিকিৎসার অভাবে এবং বিভিন্ন সমস্যায় মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার রাতে শিলচরের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ৫৭-বছরের মনীন্দ্র চন্দ্র দাস। তিনি কাছাড় কাগজ কলের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (চিপার হাউস)-য়ে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুর সমষ্টির অধীনে কাঞ্চনপুর এলাকায়। রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই পুত্র এবং এক কন্যা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। 


তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন গত ৬১ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় আর্থিকভাবে যেমন তারা পিছিয়ে পড়েছিলেন, মানসিকভাবেও অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন মনিন্দ্র। সম্প্রতি হূদরোগে আক্রান্ত হন এবং তাকে তৎক্ষণাৎ উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কিন্তু অর্থের অভাবে সেটা জোগাড় করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। তবুও সাহস করে শিলচরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিন্তু সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনি, যদিও তার রোজগার বছর ধরে বন্ধই ছিল।


দুই কাগজ কল পুনরুদ্ধারের দাবিতে একটি জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি রয়েছে, তার পক্ষ থেকে মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, "আগের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের জমানায় ৮৫ জন সহকর্মীর মৃত্যু দেখেছি এবং গত নয় মাসে ১৫ জনের মৃত্যুতে এই সংখ্যা এখন দাঁড়ালো ১০০-য়। বলতে গিয়ে একশ একটা সংখ্যা হলেও আমরা জানি কতটুকু বেদনা এবং হতাশা এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে। যেখানে সরকার আত্মনির্ভর হও বলে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছেন, দুটো সফল কাগজ কলকে শেষ করে দিয়ে তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কর্মচারীদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই প্রত্যেকটি মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে গণ্য করি।"


হাইলাকান্দির পাঁচগ্রামে থাকা কাছাড় কাগজ কল এবং মরিগাও জিলার জাগীরোড থাকা নঁগাও কাগজ কলকে আগেই দেউলিয়া ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল কোম্পানি লো ট্রাইবুনাল (এনসিএলটি)। হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের লিকুইডেটর কুলদীপ ভার্মাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি যেন ১০ অক্টোবর, ২০২২-য়ের মধ্যে নিলাম আয়োজন করে দুই কাগজ কলের সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। গত বছর জুন মাসে প্রথমবার নোটিশ জারি করা হয় এবং বেজ প্রাইস রাখা হয়েছিল ১১২৯ কোটি টাকা। তবে অসম সরকার পরবর্তীতে সম্পূর্ণ সম্পত্তি মাত্র ৩০০ কোটি টাকায় কিনতে আগ্রহ দেখায়। সরাসরি এই প্রস্তাবে রাজি না হলেও কুলদীপ শর্মা ধীরে ধীরে সম্পত্তির দাম কমিয়ে আনছেন। এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ চতুর্থ অকশন নোটিশে বিক্রয় মূল্য রাখা হয়েছে ৪২৯.৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত নয় মাসে সম্পত্তির দাম কমেছে ৭০০ কোটি টাকা।


হয়তো আগামী একটা বা দুটো নোটিশে দাম কমে ৩০০ কোটির নিচে চলে যাবে বলেই অভিমত ব্যক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে অসম সরকার তাদের প্রস্তাবিত মূল্যেই খুব সহজে সম্পত্তিটি কিনে নিতে পারবেন। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছিলেন কাগজ কলের কর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে সরকার ৫৭০ কোটি টাকার একটি রিলিফ প্যাকেজ দেবে। এর কিছুদিন আগেই দুই কাগজ কলের ৯০০ পরিবারকে কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের ৫৭০ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়ে কর্মীরা খুশি হলেও তারা জানিয়ে দিয়েছিলেন, যতক্ষণ যত টাকা হাতে আসছে না তারা কোয়ার্টার ছাড়বেন না। দু'মাসের মধ্যে সেই টাকা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু এখনো সেই টাকা কর্মীরা পাননি। শততম সহকর্মীর মৃত্যুর পর কাগজ কলের কর্মচারীরা আবারো ভেঙে পড়েছেন।



Cachar Chronicles

Cachar Chronicles

News Desk

Total 14 Posts. View Posts

Cachar Chronicles

Cachar Chronicles

News Desk

Total 14 Posts. View Posts


About us

Cachar Chronicles is a digital infotainment website based out at Silchar, Our main aim is to bring out the unknown and unheard stories of Barak Valley and beyond through Documentaries, Ground reports, Opinions, and much more.




Follow Us