Home Crime শ্রীনগরে এনকাউন্টারে খতম হিজবুল মুহাজিদিনের প্রধান কমান্ডার সইফুল্লা।

শ্রীনগরে এনকাউন্টারে খতম হিজবুল মুহাজিদিনের প্রধান কমান্ডার সইফুল্লা।

ফের কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি দমনে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। রবিবার শ্রীনগরের রাংরেত এলাকায় এনকাউন্টারে হিজবুল মুহাজিদিনের প্রধান কমান্ডার সইফুল্লা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এদিন সকালে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। তাতে এক জঙ্গি জীবিত অবস্থাতেও ধরা পড়েছে।

সইফুল্লা মির ওরফে গাজি হায়দার ২০১৪ সালের অক্টোবরে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দিয়েছিল। পুলওয়ামা জেলার মালংপুরার বাসিন্দা সে। রিয়াজ নাইকুর হাত ধরেই হিজবুল্লায় যোদ দিয়েছিল সে। জঙ্গি দলে তার নতুন নাম হয়েছিল গাজি হায়দার, যদিও ডাক্তার সাব নামেই জঙ্গিদের মধ্যে পরিচিত ছিল সে। নিরাপত্তা বাহিনীর কাশ্মীরের টপ টেন মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় একেবারে শীর্ষে ছিল সইফুল্লা। উপত্যকার জঙ্গি হামলার বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ছিল সে।তাই সইফুল্লাকে খতম করার ঘটনা নিরাপত্তারক্ষীদের বড়সড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি, এই বছর শুরু থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গি দলগুলির প্রধান কমান্ডারদের নিশানা করছে সেনাবাহিনী। লস্কর এবং হিজবুলের একের পর এক কমান্ডারকে খতম করে জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম টেনেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত মে মাসে পুলওয়ামায় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিল হিজবুল্লা প্রধান রিয়াজ নাইকু। সেই সময় সে হিজবুল্লার অপারেশনাল কমান্ডার ছিল। তার মৃত্যুর পর ডাক্তার সইফুল্লাকে হিজবুল্লার নতুন প্রধান মনোনীত করা হয়েছিল। অর্থাৎ এই নিয়ে চলতি বছরেই হিজবুল্লার দুই কমান্ডারকে খতম করল নিরাপত্তা বাহিনী।

এপ্রসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের আইজি (কাশ্মীর রেঞ্জ) বিজয় কুমার জানান, গোপন সূত্রে খবর আসে শ্রীনগরের রাংরেত এলাকায় একজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। সোমবার সকালে সেই খবরের ভিত্তিতে সেখানে প্রথমে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও সিআরপিএফ। পরে তাতে যোগ দেন ভারতীয় সেনা জওয়ানরাও। তল্লাশির সময় আচমকা জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চলার পর ঘটনাস্থল থেকে এক জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পাশাপাশি আরেকজনকে জীবিত অবস্থায় পাকড়াও করা হয়। পরে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মৃত জঙ্গি জম্মু ও কাশ্মীরে থাকা হিজবুল মুজাহিদিন-এর প্রধান কমান্ডার সইফুল্লা। তবুও দেহ শনাক্ত করার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়েছে।

সইফুল্লাকে খতম করার ঘটনা নিরাপত্তারক্ষীদের বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সইফুল্লাকে নিয়ে এই বছর এখনও পর্যন্ত দু’জন হিজবুল প্রধানকে খতম করা হল। এবছরের মে মাসে হিজবুলের শীর্ষ কমান্ডার রিয়াজ নাইকোকে পুলওয়ামায় খতম করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তারপরই হিজবুল প্রধানের দায়িত্ব পায় সইফুল্লা। তাই আজ তার খতম হওয়ার ঘটনা নিরাপত্তারক্ষীদের বড় সাফল্য।

উল্লেখ্য যে দুদিন আগেই জম্মু কাশ্মীরে বিজেপির তিন নেতার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল হিজবুল মুজাহিদ্দিন সংগঠন। সেই ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হিজবুলের কম্যান্ডার সৈফুল্লাহকে এনকাউন্টারে খতম করে সেনা।