Home Crime অসম-মিজোরাম সীমা বিতর্ক! লায়লাপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত।

অসম-মিজোরাম সীমা বিতর্ক! লায়লাপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত।

অসম-মিজোরাম সীমা-বিবাদ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দুই রাজ্যের সীমানা ঘেঁষা বিস্তীর্ণ অঞ্চল। কাছাড়ের লায়লাপুর, হাওয়াইথাং-এর অসম-মিজোরাম সীমান্তে এবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।সম্প্রতি শুক্রবার রাতে ধলাইয়ের লায়লাপুর এলাকায় জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করেছিল মিজোরামের কিছু দুষ্কৃতী।সাধারন মানুষের তীব্র বিরোধিতা এবং পুলিশের সহায়তায় এদিন দুষ্কৃতীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।তারপর শনিবার গোটা দিনভর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার পর রাতের অন্ধকারে ঘটে যায় অঘটন। লায়লাপুর সীমান্তের অসম অংশে ঢুকে মিজো দুষ্কৃতিরা প্রায় ১২টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি গ্রামবাসীকে মারপিট করা হয়। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে মিজো দুষ্কৃতিরা দলবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এ ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের শারীরিক অবস্থা মারাত্মক বলে জানা গেছে। তাছাড়াও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা হয়।

এব্যাপারে লায়লাপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, বেশকিছুদিন ধরেই অসম মিজোরাম সীমান্তবর্তী অঞ্চল লায়লাপুর, হাওয়াইথাংএ জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মিজোরা। মিজো প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সীমান্তবর্তী গ্রামের মিজো নাগরিকরা। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে গতকাল রাতের অন্ধকারে সম্পূর্ণ অস্ত্রশস্ত্র সম্পন্ন মিজো সন্ত্রাসবাদীরা দলবদ্ধভাবে হামলা চালায় লায়লাপুরে।তারা লায়লাপুর সীমান্তের অসম অংশে ঢুকে সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘর দোকানপাট আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।তারপর স্থানীয় বাসিন্দারা দলবদ্ধভাবে মিজো আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানায় যার ফলে লায়লাপুর অটো স্টেন্ডের নিকটবর্তী অঞ্চলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষের ফলে নাজিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর ভাবে আহত হয়।তারপর তাকে চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটি পাঠানো হয়।বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা খুব গম্ভীর।তাছাড়া লায়লাপুরের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন যে,অসম মিজোরাম সীমান্তের নিকটবর্তী জঙ্গল এলাকায় শেগূন ও শুপারির কয়েকটি বাগান রয়েছে এই বাগানগুলি থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকার শেগূন কাঠ ও শুপারি উৎপাদন করা হয় প্রতি বৎসর এবং সেই বাগানগুলি দখলের জন্যই মরিয়া হয়ে উঠেছে মিজোরা।এব্যাপারে এখন পর্যন্ত শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর রবিবার পরিস্থিতির খতিয়ে দেখতে লায়লাপুরে ছুটে আসেন নিখিল ভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভাপতি সুস্মিতা দেব এবং প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিক আহমেদ ও যুব কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা।এনিয়ে নিখিল ভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভাপতি ও শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেন “এটা অবাক করে দেওয়ার মতো বিষয় যে মিজোরাম সরকার যা বিজেপির এনডিএ-র একটি অংশ,আর সেই মিজোরাম সরকার আসামের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ।এটি কেবল কাছাড়েই নয়, করিমগঞ্জেও একই ঘটনা ঘটছে।অবাক করার মতো বিষয় হ’ল যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এখনও নিদ্রায় রয়েছেন, ”

তাছাড়া রবিবার অসমের বন ও পরিবেশ, আবগারি ও ফিশারি মন্ত্রী এবং ধলাইয়ের বিধায়ক পরিমল সুক্লবৈদ্য আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারপরে তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতিতে জানান গতকাল সহিংসতার আগ্রাসী ঘটনার ফলে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আজ আসাম-মিজোরাম সীমান্তের লাইলাপুর অঞ্চলটি পরিদর্শন করা হয়।কাছাড় জেলা এসপি ও ডিসির নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমরা আন্তঃরাজ্য সীমান্ত আগ্রাসনের দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছি। কাছাড় পুলিশ লায়লাপুরের জনগণের অবিচ্ছিন্ন সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং আমি এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত ঘটনা ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করব বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি বেশ কয়েকদিন ধরেই মিজোরাম সীমান্তে ব্যাপক অশান্তি দেখা দিয়েছে। রাতাবাড়ি কেন্দ্রের চেরাগি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বেশ কিছু জমি মিজোরাম জবর দখল করে নিয়েছিল। চেরাগি ফরেস্ট রেঞ্জের শিংলা রিজার্ভের অনেক ভিতরে চলে এসেছিল মিজোরামের মামিত জেলার লুসাইছড়া গ্রামের একাংশ বাসিন্দা। ঐ সব জমিতে মিজোরা ঘরবাড়ি তৈরি করে চাষাবাদ ও আরম্ভ করে দিয়েছিল। এমনকি মনরেগা প্রকল্পে গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প শুরু করার লক্ষ্যে ভিত্তি প্রস্তর ও স্থাপন করেছিল লুসাইছড়া গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ। বনবিভাগের কাছ থেকে মিজো আগ্রাসনের অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার উচ্ছেদ অভিযানে নেমে জেলা প্রশাসন।তারপর সাধারণ মানুষ এবং পুলিশের সহায়তায় গুড়িয়ে ফেলে দেওয়া হয় একটি বাড়ি সহ মিজোরামের মনরেগা প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর। সেইসঙ্গে কেটে ফেলা হয় তিল হলুদ আদা লাগানো কয়েক বিঘা জমির ফসল। করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার পর দু-দিনের মধ্যেই পাল্টা জবাবে মিজোরাম সরকার ওই স্থানেই আই আর ব্যাটেলিয়নের ক্যাম্প তৈরি করে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করে দেয়। শুধু তাই নয়, মিজো ছাত্র সংগঠন এমজেডপি, ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশন ও মিজো ন্যাশনাল ইয়ুথ ফ্রন্ট উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষেপে গিয়ে আরও তীব্র আগ্রাসন শুরু করে। তাদের মদতে ও মিজোরাম সরকারের ছত্রছায়ায় সশস্ত্র বাহিনীর সুরক্ষা বেষ্টনীতে মামিত জেলার বাসিন্দারা অসমের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যুদ্ধস্তরীয় তৎপরতায় ঘরবাড়ি তৈরি করে জবরদখল করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এতে আগের চেয়েও বেশি জমি মিজোরামের কব্জায় চলে যায়।