Home Art & Culture হাওয়ায় বিষ, প্রাণে নজরুল

হাওয়ায় বিষ, প্রাণে নজরুল

দু’ হাজার বিশ, সালটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এক চোখে না দেখা ক্ষুদ্র জীব কিভাবে আমাদের জীবন আটকে দিতে পারে। আটকে আছে গোটা বিশ্ব, এই বিশেই আটকে গেলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আটকে গেলেন স্বয়ং মা বাসন্তী। আটকে গেল বাঙালির পয়লা বৈশাখ, আটকে গেল ঈদ। আমফান এর মত বিধ্বংসী দুর্যোগ ও ঘটে গেল এই বিশে। বিজ্ঞান কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রযুক্তিকে ঘরের ভিতর করে আজ সমগ্র বাংলায় করোনার দাপট।

25 শে মে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম জয়ন্তী, কিন্তু এই বিশে সবাই যে গৃহবন্দী, তথাপিও রবীন্দ্র জয়ন্তী, পয়লা বৈশাখ এবং ভাষা শহিদ দিবসের পর, শিলচর ভিন্ন স্বাদে উদযাপন করল নজরুল জয়ন্তী। কিছু সাস্কৃতিক সংস্থার উদ্যম প্রয়াসে সম্ভব হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।

Credit : Swarnajyoti Foundation

‘এসো বলি’ নামের সংস্থা, দশ জন কচিকাঁচাদের নিয়ে আবৃত্তি করলো এক প্রসিদ্ধ কবিতা ‘লিচু চোর’ এবং প্রকাশিত হলো সোশাল সাইটে। প্রজেক্টটির নাম ছিল ‘হাওয়ায় উড়ায়, রাঙায় কিরণ’ । এই প্রজেক্টটি অলংকৃত করতে যে কচিকাঁচারা অংশগ্রহণ করে তারা হলো সৌরিক দে, সানভি পাল, আদ্রিতা দত্ত, লালা প্রিয়াঙ্কর পাল, প্রতীক্ষা মহন্ত, দেবাক্ষি সেন, দৃষিতা দাশ, সায়ান্তিকা চক্রবর্তী, শ্রেষ্ঠা পাল এবং আয়ুষ্মান শর্মা চৌধুরী।

আরেক সংস্থা স্বপ্ন উড়ান, শিলচর , আয়োজন করল ফেসবুক লাইভ। কবিতায়,নাচে,গানে মুখরিত হলো ফেসবুক। এই লাইভে অংশগ্রহণ করলেন সকাল এগারোটায় শিলচরের সৌমিলি বিশ্বাস, বিকেল পাঁচটায় করিমগঞ্জের নন্দিতা পাল, এবং রাত সাতটায় ধর্মনগরের গ্রন্থিতা গোস্বামী।

স্বর্ণজ্যোতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫ জন শিল্পীদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি ভিডিও এর মাধ্যমে গান নাচ অঙ্কন ও আবৃত্তির অঞ্জলী দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করল ইউটিউব এ্যাপের ওপর নিজস্ব চেনেলে “বন্দি তোমায় হে বিদ্রোহী” নামে একটি কলাজ ভিডিও এর দ্বারা।
নজরুল জয়ন্তী উদযাপনে ভাগ নিয়েছিলেন এ অঞ্চলের বিশিষ্ট শিল্পী মেঘরাজ চক্রবর্তী, বৈশালী চক্রবর্তী, সমর্পীতা ভট্টাচার্য্য, অমিতা পাল, অন্বেষা রায় চৌধুরী, বিশ্বরূপ দেবরায়, অনামিকা মল্লিক, তনয়া ভট্টাচার্য্য, স্বর্ণালী ভট্টাচার্য্য, শুভ্র ভট্টাচার্য্য প্রমূখরা তাছাড়া ডিমাপুর থেকে পূজা দাস পাল , ধেমাজি থেকে রাজভি ভট্টাচার্য্য ও ভাগ নেন।

শিলচর জানল, করোনা ভাইরাস, আমফন, বন্যা, কিছুই আটকে রাখতে পারবে না এই মাটির সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.