Home Art & Culture নজরুল স্মরণে – হে বিদ্রোহী তব চরণে নত মম শির

নজরুল স্মরণে – হে বিদ্রোহী তব চরণে নত মম শির

দেশে অসহযোগ আন্দোলনের তোড়জোড়। তিনি সেদিন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী।
“ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী” সেদিন তিনি যে বিদ্রোহী,
“মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়ুগ কৃপাণ ভীম রণ, ভূমে রণিবে না-
বিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
আমি চির বিদ্রোহী বীর –
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির”
তিনি হলেন গ্রেফতার, জবানবন্দি দিলেন
“আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ রাজকারাগারে বন্দি এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত।… আমি কবি,আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত। কবির কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন, আমার বাণী সত্যের প্রকাশিকা ভগবানের বাণী। সেবাণী রাজবিচারে রাজদ্রোহী হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারে সে বাণী ন্যায়দ্রোহী নয়, সত্যাদ্রোহী নয়। সত্যের প্রকাশ নিরুদ্ধ হবে না। আমার হাতের ধূমকেতু এবার ভগবানের হাতের অগ্নি-মশাল হয়ে অন্যায় অত্যাচার দগ্ধ করবে…।”

“তুমি শুদ্ধ করো আমার জীবন,
আমি হয়ে উঠি সদ্য ফোটা ফুল,
আমি হয়ে উঠি সকালের ঘুম ভাঙ্গা চোখ।”
বিংশ শতাব্দীর ১৮৯৯ সালের ২৫ শে মে এমনি এক সকালে পৃথিবীর গর্ভে ফুল ফোটেছিল, নাম ছিল ‘দুখুমিয়া’ । পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি।
বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো (বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল) দলে যোগ দেন।
১৯১০ সালে নজরুল লেটো দল ছেড়ে ছাত্র জীবনে ফিরে আসেন। কিন্তু দারিদ্রতা তার পিছু ছারলে না, কখনো বা গার্ডের খানসামা এবং সবশেষে আসানসোলের চা-রুটির দোকানে রুটি বানানোর কাজ করেই বাল্যকাল টা কাটিয়েছিলেন।
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সেখানেই রচিত হয় তার প্রথম গদ্য “বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী”, প্রথম প্রকাশিত কবিতা “মুক্তি” ; গল্প: হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি। কবি আবার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ও অংশ নেন। যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে নজরুল ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন। এখানে এসেও তার অপূর্ব কিছু রচনা প্রকাশিত হয়। সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম গান প্রকাশিত হয়। গানটি ছিল: “বাজাও প্রভু বাজাও ঘন”।

হলো অসহযোগ আন্দোলন, হলেন কারাবন্দী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তার বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করলেন। মুক্ত হলেন কিন্তু ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। বিদ্রোহী কবি হলেন বাকশক্তি হীন। ভারত স্বাধীন হলো, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিদের বিজয় লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করলো।১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে সপরিবারে বাংলাদেশে গমন কবি নজরুলের।
“মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই
যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”
১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্টে বিদ্রোহী ফুল ঝরলো । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধি রচিত হল।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.